ঢাকা১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ইতিহাসের সাক্ষী গাইবান্ধার শাহ্ সুলতান গাজীর মসজিদ

বার্তা বিভাগ
এপ্রিল ১৭, ২০২৪ ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আনোয়ার হোসেন,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর অবস্থিত  মীরের বাগানের ঐতিহাসিক শাহ্ সুলতান গাজীর মসজিদ। মসজিদের দেওয়ালে খোদিত লিপি থেকে জানা যায়, মসজিদটি স্থাপিত হয় ১০১১ সালে। মসজিদের ভেতরে একটি কালোপাথর পাওয়া গিয়েছিল। তাতে ‘১০১১ই সাই’ উৎকীর্ণ ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালের কোনও এক সময় তা হারিয়ে যায়। বহু অনুসন্ধানের পরও এটির আর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, মসজিদটি দীর্ঘদিন পতিত থাকার পর ১৯০০ সালে সৈয়দ ওয়াজেদ আলী নামে এক দরবেশ এ মসজিদ ও মাজার খুঁজে বের করে সংস্কার করেন। মসজিদের পাশেই শাহ্ সুলতান গাজীর মাজার অবস্থিত। এখানে আরও ২ জন ইসলাম প্রচারকের মাজার আছে। মীর মোশাররফ হোসেন ও ইবনে শরফুদ্দিন শাহ্।

দেশের অধিকাংশ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের মতো শাহ্ সুলতান গাজীর মসজিদটিও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট। মসজিটির আয়তকার ৩টি বর্গের সমষ্টি। প্রতিটি বর্গের উপর একটি করে গম্বুজ। মাঝের গম্বুজটি অধিক কারুকার্য শোভিত ও একটু উঁচু। মুসল্লি বেড়ে যাওয়াই সামনে টিনের ছাউনি দিয়ে নামাজের স্থান বর্ধিত করা হয়েছে। পাশেই আজান দেয়ার জন্য রয়েছে দোতলা মিম্বার যা চিকন সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয়। একসময় মিম্বার থেকে আজান দেয়া হলেও, এখন মসজিদের ভেতর থেকে মাইকে আজান দেয়া হয়। বুঝা যায় বেশ কয়েকবার সংস্কার হওয়ায় মসজিদটি তার আদি সৌন্দর্য হারিয়েছে। সব কিছুর পরেও এই আদি পুরাকীর্তি বাঁচিয়ে রাখার কৃতিত্ব কিন্তু এই গ্রামের সাধারণ মানুষগুলোর।

মসজিদ ও মাজারকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার ইতিহাস খ্যাত মীরের বাগানে ইচ্ছা বা মানত পূরণের মেলা বসে। প্রতি বছরের বৈশাখ মাসে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসে মীরের বাগানের ঐতিহাসিক শাহ্ সুলতান গাজীর মসজিদ ও মাজারে। এখানে মাসব্যাপী ইচ্ছা পূরণের বৈশাখী মেলা বসে। প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটে এই মেলায়। মেলায় অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষের একটা বড় অংশ তাদের ইচ্ছা পুরণের মানত করেন । মেলার প্রথম দিন থেকেই নিজ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ইচ্ছা পূরণের আশায় ভিড় জমান এ মেলা প্রাঙ্গণে।

মাজার আর মসজিদের সম্মুখে এবং দু’পাশের ৩.৯৫ একরের খোলা প্রান্তর জুড়ে বসেছে এ মেলা। নির্দিষ্ট এলাকায় চারু, কারু পন্যসহ মেলার বেচাকেনার নানা পসড়া সাজানো ছোট ছোট দোকান বসে। এর সাথে রয়েছে নানা মিষ্টি, মুড়ি, জিলাপির দোকান। আর মাজার সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী চুলা বানিয়ে চলে বিশেষ খিচুরী রান্না। মানত বা ইচ্ছা পুরণের আশায় দুর দুরান্তর থেকে প্রতিদিন শত শত ভক্ত নারী-পুরুষ এখানে এসে মাজার জিয়ারত করে এবং খিচুরী রান্না করে। রান্না করা খিচুরি মাজার কর্তৃপক্ষ এবং দরিদ্রদের মধ্যে বন্টন করে দিয়ে নিজেরা খায় এ ছাড়াও তবারক হিসেবে বাড়ীতেও নিয়ে যায়। মাজার ও মসজিদ নির্ভর মানুষগুলোর সে মানতের টাকায় পুরো বছর চলে এই প্রতিষ্ঠান।

মাজারের মোতওয়াল্লী (খাদেম) সূত্রে জানা গেছে, দারিয়াপুরের মীরের বাগানের সাথে ইতিহাস খ্যাত মীর জুমলার সম্পর্ক আছে বলে প্রচলিত রয়েছে। অতীতে বিশাল এক আমবাগানের জন্য এই মীরের বাগান প্রসিদ্ধ  ছিল। ১৩০৭ সালে (তথ্যসূত্র: মসজিদ গাত্রের শিলালিপি) কলকাতার পীর সৈয়দ ওয়াজেদ আলী বাহারবন্দ পরগণার ঘন জঙ্গল থেকে পীর ইবনে শরফুদ্দিনের স্মৃতিবাহী কবর ও মসজিদের ধ্বংসাবশেষ উৎঘাটন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেন। ময়মনসিংহের ক্বারী করিম বক্সের উত্তরাধিকারীগণ বংশ পরম্পরায় মোতওয়াল্লী হিসেবে এই ওয়াকফ সম্পত্তিটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন।

মীরের বাগানের পীর সাহেবের মাজার জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। স্থাপত্যকালের বিচারে মীরের বাগানের মসজিদের নির্মাণ শৈলীতে হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মমতের শিল্পরীতির বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। সঠিক ঐতিহাসিক দিক পর্যালোচনার মাধ্যমে মীরের বাগান সামগ্রিকভাবে বাংলার ইতিহাসের বিভিন্ন কালের বিবর্তনের তথ্য পূরণে সহায়ক হতে পারে ।

গাইবান্ধা শহর (ব্রিজ) থেকে রিকশা বা অটোতে
প্রথমে দাড়িয়াপুর যেতে হবে, রিকশায় ২০/২৫ এবং অটোতে ভাড়া পড়বে ১০ টাকা। সেখান থেকে মীরের বাগান শাহ্ সুলতান গাজীর মসজিদ যেতে রিকশা বা অটোতে ভাড়া পড়বে ১০ টাকা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি। যোগাযোগ: হটলাইন: +8801602122404 ,  +8801746765793 (Whatsapp), ই-মেইল: [email protected]