ঢাকা২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পেশায় রাজমিস্ত্রি থেকে সাহিত্য চর্চা করে নবীনগরে আলোড়ন সৃষ্টি

বার্তা বিভাগ
অক্টোবর ৬, ২০২৩ ১০:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোহাম্মদ জুয়েল রানা, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
পেশায় রাজমিস্ত্রি হয়েও অদম্য ইচ্ছার বলে প্রত্যন্ত গ্রামে সাহিত্য চর্চা করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লেখক মো. জমির হোসেন পারভেজ। অভাবের সংসারে যেখানে পেট চালানো দায়, তখনও থেমে নেই তার সাহিত্য চর্চা। কবি জমির হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের সেমন্তঘর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে জমির তৃতীয়। স্কুল জীবন থেকেই তার কবিতা লেখা শুরু।

এরপর তিনি একের পর এক লিখে যাচ্ছেন। অভাব অনটনের কারণে এসএসসি পাশ করার পর আর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর আবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের মাধ্যমে এইচএসসি ও ডিগ্রি পাশ করেন। অর্থ ও পরিবারের চাপ থাকলেও তিনি থেমে যাননি। লড়াকু সৈনিকের মত অর্থের কষাঘাত স্বত্বেও সাহিত্য চর্চা করে চলেছেন নিয়মিত।

দেশের প্রত্যান্ত গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসখ্য প্রতিভা। যারা কেবল নি:স্বার্থভাবে নিজের মেধা আর প্রজ্ঞাকে অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছেন সমাজকে আলোকিত করতে। এমন এক প্রতিভাবান ব্যক্তি জমির হোসেন। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া এই কবি নিজের প্রচেষ্টার পাশপাশি প্রবাসীদের সহযোগীতায় প্রকাশ করেছেন এক ডজনেরও বেশি গল্প উপন্যাস ও প্রবন্ধের বই। লিখেছেন অন্তত ৩০টি নাটকের পাণ্ডুলিপি যা মঞ্চস্থ হয়েছে একাধিকবার। নিজের লেখা বই প্রকাশ করতে গিয়ে ধারদেনা পাশপাশি বিয়ের আংটিও বিক্রি করেছেন এই কবি।

কথা হয় লেখক ও কবি মো. জমির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার জীবন চলার পথ স্বাভাবিক ছিল না। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আমাকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। আমার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে। বইটির নাম প্রিয়ার মুখে চোখে ভাসে। এই সময় আমার কাছে একটি টাকাও ছিল না। তখন আমার বাবাকে বলেছিলাম আমার টাকা লাগবে। তখন বাবা কোনো উপায় না পেয়ে সুদের ওপর তিন হাজার টাকা এনে দিয়েছিলেন আমাকে। সেই টাকা দিয়ে বইটা প্রকাশ করি। দ্বিতীয় পর্যায়ে আমার হতাশার প্লাটফর্ম নামের বইটি প্রকাশ হয়েছিল। তখনও আমার কাছে টাকা ছিল না। তখন আমার বিয়ের আংটি ও স্ত্রীর মাটির ব্যাংকের জমানো টাকা দিয়ে কাব্যগ্রন্থ বইটি বের করি। পরবর্তীতে প্রত্যেকটি বই বের করতে গিয়ে আমার বন্ধুমহল শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে সহযোগিতা করেছে।

তিনি বলেন, একজন রাজমিস্ত্রি হয়েও সংসার চালিয়ে অভাবের দুর্গম পাহাড়ে ওপর থেকেও বেঁচে থাকার যে কষ্ট একমাত্র আমিই বলতে পারি। তারপরও আমি সাহিত্য চর্চা ছেড়ে দূরে সরে যাইনি। না খেয়েও আমি সাহিত্য সাধনা করে যাচ্ছি। আমি এখন পর্যন্ত নয়টি কাব্যগ্রন্ত্র, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস লিখেছি। সম্পাদনা করেছি পাঁচটির মত বই। আমার লেখা প্রায় ৩০টির ওপরে নাটক স্থানীয়ভাবে মঞ্চায়িত হয়েছে। আরও ১২টির মত বই লেখার কাজ চলছে। বই প্রকাশিত হওয়ার বিষয়ে সরকারিভাবে যদি আমাকে সহায়তা করা হয়, তাহলে আমি আরও বই লিখতে পারব। এছাড়া আমার লাইব্রেরিকে যদি সরকার বই দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয় তাহলে সাহিত্য সাধনা করে জাতীয় পর্যায়ে যেতে পারব।

জমির হোসেন পারভেজের ছোট ভাই নবীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বলেন, সহকর্মীদের সহযোগিতায় লেখাগুলো বিভিন্ন অনলাইনে প্রচার করে ভাইকে উৎসাহিত করে থাকি। স্থানীয়ভাবে মঞ্চায়িত নাটকগুলো অনলাইন প্রচার করা হয়েছে। জমির হোসেন পারভেজ শুধু একজন সাহিত্য প্রেমীই নন, অভিনয়েও রয়েছে তার অসামান্য দক্ষতা। তার সম্পর্কে আরো বলেন,- সেমন্তঘর মানব কল্যাণ যুব সংগঠন ও গণ মেধাবিকাশ পাঠ্য গ্রন্থাগারের কাজের শেষে রাতে এই পাঠাগরে বসে লেখালেখি করেন। কবি জমির হোসেন পারভেজ একজন সাদা মনের নিরহংকার মানুষ। তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার ও কুসংস্কার দূর করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি একসঙ্গে লেখক, অভিনেতা ও নাট্য নির্মাতা। আমি তার প্রত্যাশিত সফলতা কামনা করছি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি। যোগাযোগ: হটলাইন: +8801602122404 ,  +8801746765793 (Whatsapp), ই-মেইল: [email protected]