ঢাকা১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পৌরসভায় মৃতরাও ভোটার

বার্তা বিভাগ
মে ২৮, ২০২৩ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি:

সম্প্রতি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পৌরসভায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়। নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এই তালিকায় দুই শতাধিক মৃত ব্যক্তিকে ভোটার করা হয়েছে। মূলত ২০১৬ সালের তালিকায় যারা ভোটার ছিলেন, তাদের সবাইকে হালনাগাদ তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় চাকরি সূত্রে অনেকেই এই এলাকায় বসবাস করতেন। বদলিজনিত কারণে চলে গেছেন। তাদের জায়গা হয়েছে এই তালিকায়।

জানা যায়, ২০২২ সালের ২০ মে থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চার ধাপে ভোটারযোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য যোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ চলে। নির্বাচন কমিশন থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি শুরু করা হয় তখন। এতে যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটার করার পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।  কিন্তু সেখানে যেমন মৃতদের ভোটার রাখা হয়েছে, তেমনি ভোটার পুনর্বিন্যাসেও রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা নির্বাচনের জন্য পুনর্বিন্যাস করা সীমানা অনুযায়ী ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস করার নির্দেশনা জারি করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। গত ১৫ মে নির্দেশনার মাত্র ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন ভোটার তালিকা করতে এক কর্মকর্তাকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। নির্দেশনা অনুযায়ী মাত্র চার কার্যদিবস পরই ২২ মে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়। তালিকায় কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা ২৩ ও ২৪ মে অফিস চলাকালীন ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাসকারী কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ করা হয়।

প্রকাশিত তালিকা ঘেঁটে পাওয়া যায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ২০০ ভোটারের নাম রয়েছে, যারা অনেক আগেই মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে একজনের নাম ইলিয়াস খান। প্রকাশিত ভোটার তালিকায় যার নম্বর-৭৯০৫১২০০০১০০, পিতা-আসমত আলী খান। তবে মৃত্যুসনদে দেখা যায়, ইলিয়াস খান ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আরেকজন আব্দুল খালেক। পিতা গফুর। মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তার ভোটার নম্বর-৭৯০৫১৬৮১৪৭৭৯। একইভাবে দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল আজিজ সিকদার, আবুল হাশেম হাওলাদার, আব্দুল খালেক বেপারি, আব্দুর রব হাওলাদার, গাজী আফজাল হোসেন, মহব্বত আলী হাওলাদারসহ আরও অনেক মৃত ভোটার রয়েছেন হালনাগাদ ভোটার তালিকায়।

এমন অনেকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা অন্য এলাকার বাসিন্দা। চাকরির সুবাদে একসময় ভাণ্ডারিয়া পৌরসভায় থাকলেও ৫ বছরে তারা অন্যত্র চলে গেছেন; কিন্তু তাদের নামও ভোটার তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকায়ও রয়েছে গোঁজামিল। অনেক ভোটারকে নিজ ওয়ার্ডের পরিবর্তে অন্য ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। শুধু ১ নম্বর ওয়ার্ডেই ২০০ জনের বেশি ভোটারকে অন্য ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৮০০ ভোটার রয়েছেন, যারা ২০২১ সালের ২১ জুনের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাশের শিয়ালকাঠি ইউনিয়নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তাদেরও নতুন হালনাগাদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, মাত্র ৪ দিনের মধ্যে পুরো পৌরসভার ভোটার তালিকা করতে গিয়ে এ ভুলভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা কারও ঘরবাড়িতে না গিয়ে আগের তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছেন। ভুলভ্রান্তিতে ভরা এ ভোটার তালিকা সংশোধন না করে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন করলে তাতে সমস্যা আরও বাড়বে বলে মনে করে ভাণ্ডারিয়ার অনেক পৌরবাসী।

যেহেতু ভোটার তালিকা প্রকাশের বিজ্ঞপ্তিতে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে, সে অনুযায়ী ২২ মে বিকেলে এসব অনিয়ম ও ভুলভ্রান্তি সংশোধনের আবেদন করেন অনেক ভুক্তভোগী। পৌরসভার ২০ জন ভোটার লিখিতভাবে ওই দিনই উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কার্যালয় এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব বরাবর এসব ভুলভ্রান্তি উল্লেখ করে এলাকাবাসীর পক্ষে তা সংশোধন করার আবেদন করেন মালিক মো. সওকত ইকবাল নামে একজন।

এরই মধ্যে এলাকাবাসীর করা সে আবেদন নাকচ করে দিয়ে ভুলভ্রান্তিতে ভরা ভোটার তালিকাই সঠিক বলে গত ২৪ মে পাল্টা চিঠি ইস্যু করেছেন ভাণ্ডারিয়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমনকি নতুন করে ভোটার তালিকা সংশোধনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি। যোগাযোগ: হটলাইন: +8801602122404 ,  +8801746765793 (Whatsapp), ই-মেইল: [email protected]