ঢাকা১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

লালমনিরহাটে খোঁজ মিলেছে বিখ্যাত মাদক সম্রাটের;ভিন্ন স্টাইলে চলছে সারাদেশে মাদক সরবরাহ

বার্তা বিভাগ
এপ্রিল ১৩, ২০২৩ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মো: রবিউল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি,লালমনিরহাট:

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় খোঁজ মিলেছে মাদক সম্রাটের। উপজেলার ৮ নং গোকুন্ডা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে তিস্তা সওদাগর পাড়ায় বসবাসকারী বহুল আলোচিত একাধিক মাদকদ্রব্য মামলার আসামী মাদক সম্রাট শহিদুল ইসলাম (৫০)। তিনি ওই এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে।

আলোচিত মাদক সম্রাট শহিদুল ইসলাম ইতো-মধ্যেই ডিবি, পুলিশ, র‌্যাব-ও লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের হাতে কয়েকবার মাদকদ্রব্য’র বড় বড় চালানসহ গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে বেরিয়ে এসে ওই এলাকায় আবারও গড়ে তুলুছেন মাদকদ্রব্য’র সম্রাজ্ঞ্য। তাই নিজ এলাকায় তিনি মাদকের সম্রাট নামে পরিচিত লাভ করেছেন।

মাদক সম্রাট সহিদুল ইসলামের অন্যতম মাদকদ্রব্য’র বড় যোগানদাতা তারই আপন ছোট ভায়রা কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার পশ্চিম ফুলমতি গ্রামের মোঃ মুকুল (ওরফে) মকু মিয়ার ছেলে আর এক কুখ্যাত মাদকদ্রব্য হিরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবার ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম। যার নামে ফুলবাড়ি থানায় কয়েকটি মাদকদ্রব্য মামলা চলমান আছে। মামলা গুলো হলো-ফুলবাড়ি থানা এফআইআর নং-৩৬/১৮৬ জিআর নং-১৮৬/১৮ তারিখ ২৪ জুন ২০১৮ ইং, ১৯ (১) এর ৩ (ক) ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন। এফআইআর নং-১৭/২৬২ জিআর নং-১৬২/২০১৯ তারিখ-২৪ জুন ২০১৯ ইং, এফআইআর নং-৫/৬২ তারিখ- ১৪জুন ২০১৯ইং ৩৬ (১) ১৪ (ক) মাদকদ্রব্য আইন ২০১৮, এফআইআর নং-৩৬/ ১৮৬ জিআর নং-১৮৬/১৮ তারিখ-২৪ জুন ২০১৮ ইং ১৯ (১) এর ৩(ক)১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন। এফআইআর নং-১৫ জিআর নং-৪৭/১৪ সহ আরও কিছু মামলা চলমান।

মাদকদ্রব্য’র যোগানদাতা তাজুল ইসলাম ও মাদক সম্রাট সহিদুল মিলে লালমনিরহাট জেলা থেকে শুরু করে কুড়িগ্রাম জেলাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মাদকদ্রব্য’র বড় বড় চালান আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন কায়দায় পাচার করে আসছে। এতে করে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ, আর মাদকদ্রব্য পাচারের টাকা দিয়ে সহিদুল ও তার ভায়রা তাজুল ইসলাম তৈরি করছে কোটি টাকার বাড়ি, কয়েক লক্ষ টাকার গাড়িসহ নামে বেনামে সম্পদের পাহাড়।

মাদক সম্রাট সহিদুল ইসলাম বলেন, তাজুল আমার ছোট ভায়রা। তার সাথে আমার একটা নিবিড় সম্পর্ক। আমি হাফ প্যান্ট পড়া থেকে জেল খেটেছি, মামলায় ভয় পাইনা। আমার নামে ৩ টি মাদক মামলা চলমান। পুলিশ বলেন, র‌্যাব বলেন, ওসি বলেন, কেউ আমার কিছু করতে পারবে না। পুলিশের আইজিপিতে লোক আছে আমার, আমি ১০০ লোক মারলেও কেউ কিছু করতে পারবে না। নিজেকে বিএনপির নাম কড়া ক্যাডার দাবি করে শহীদুল বলে, সরকার ক্ষমতায় না থাকাতে ব্যবসায় সমস্যা হচ্ছে, তবে বিএনপি ক্ষমতায় এলে কে, কি করবে দেখার কথা আছে।

মাদক সম্রাট শহিদুল আরও জানান, রংপুরের পুলিশ কমিশনারের বডিগার্ড তার আপন ভাতিজা। দুদকে রয়েছে তার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। শতশত আইনজীবীকে সে পকেটে করে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মামলা, মোকদ্দমা, আদালত এ গুলো আমার কাছে কোন দাম নেই।
আমার নামে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদকে) অভিযোগ দিয়েও কিছু করতে পারেনি আর পুলিশ কি করবে। আমি সহিদুল ইচ্ছা করলে অনেক কিছু করতে পারি প্রচুর ক্ষমতা আমার। বাংলাদেশে অনেক বড় জ্যাক আছে এমনটি দাবি তার। তবে ৩ টি মামলায় মিথ্যা এটিও দাবি করেন তিনি। শহিদুল আর ও বলেন, কত যে পুলিশের দারোগা আমার টাকায় বাড়ি, গাড়ি করছে তার হিসাব আমি দিতে পারবো না। আমি কাউকে কোন হিসাব করি না। তিনি তার ভিডিও তে নিজে স্বীকার করেন, কোন সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে নিউজ করলে, মাথা গরম হলে আমি তাকে মেরে ফেলতে পারি। সাংবাদিকরা আমার ক্ষমতা সম্পর্কে কোন কিছুই জানে না। এত আয়ের উৎস কি জানেত চাইলে, বলে এটা তার পারসোনাল ব্যাপার। ছেলেকে দিয়েছেন ৪ টাকা দামের বিলাস বহুল বাইক। ছেলের পিনিক মেটাতে বাইক কিনে দিয়েছেন বলে দাবি করে বহুল আলোচিত এই মাদক সম্রাট শহিদুল। তিনি আরও জানান, আমি ভাল খাই, সমাজে ভালভাবে চলি, দু হাতে টাকা বিতরণ করি, কোটি টাকার বাড়িতে থাকি, ছেলের দাবি বাইক, এ সব সহ্য হয়না আমার এলাকার কিছু লোকের, তাই আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তবে মামলায় মুক্তি পেলে এলাকাবাসী কত বাড়ছে দেখে নেওয়ায় হুমকি দেন এই শহিদুল।

তিনি আরও দাবি করেন দীর্ঘ ১৮ বছর থেকে আমি কাপড়ের ব্যবসা করে আসছি। আমার ২/৪ কোটি টাকা থাকতেই পারে। বর্তমানে পারিবারিক সমস্যার কারনে কাপড়ের ব্যবসা বন্ধ আছে, ঠিক এভাবেই কথা গুলো বলেন সহিদুল ইসলাম।

ওই এলাকার কয়েকজন বলেন, সহিদুল ইসলাম ভয়ানক লোক, কেননা যারা মাদক ব্যবসায়ী তারা খারাপ মানুষই হয়। তার দাপটে এলাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। তার এতো সম্পদের আয়ের উৎস কি? অবৈধ সম্পদের পাহাড় করেছে, তথ্য বেড় করে আইনের আওতায় নেওয়ার জোর দাবী এলাকাবাসীর।

গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ টোটন বলেন, আমার ইউনিয়নে এতো বড় মাদকের সম্রাট আছে তা আমার জানা ছিলো না। একজন মাদক ব্যবসায়ীর কথা শুনেছি। এ বিষয়ে সামনে আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ মাদক বন্ধের কথা উপস্থাপন করা হবে।

লালমনিরহাট সদর থানা’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এরশাদুল আলম এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশে অনেক বড় বড় অপরাধী আছে তার তুলুনায় শহিদুল ইসলাম পুলিশের কাছে কিছুই না। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য’র একাধিক মামলা চলমান। আমরা তার উপর নজর রেখেছি খুব শিঘ্রই সহিদুলের পুরো গ্যাং-কে আইনের আওতায় আনা হবে আশ্বস্ত করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি। যোগাযোগ: হটলাইন: +8801602122404 ,  +8801746765793 (Whatsapp), ই-মেইল: [email protected]