ঢাকা২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নওগাঁ “মান্দা মহানগর কলেজের অধ্যক্ষ জাল স্বাক্ষরে ১৩জন নিয়োগের দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ এর তদন্ত শুরু

বার্তা বিভাগ
এপ্রিল ১১, ২০২৩ ১২:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এ.বি.এম.হাবিব-
নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ৬নং মৈনম ইউনিয়নের “মান্দা মহানগর কলেজ” এ সভাপতির জাল স্বাক্ষর করে ১৩জনকে নিয়োগের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত উক্ত কলেজের সভাপতির দায়ীত্বে ছিলেন বাবু সামন্ত কুমার সরকার। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে ৩০জন শিক্ষক,কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অন্যজন সভাপতির দায়ীত্ব পান। এরপর বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো ডাটাবেইজের ওয়েবসাইট থেকে বাবু সামন্ত কুমার সরকার জানতে পারেন, উনি দায়ীত্ব থাকাকালীন সময়ে, ভুয়া বিজ্ঞপ্তি ও ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আরো ১৩ জন শিক্ষক র্মচারীকে, যে সমন্ধে তিনি কিছুই জানতেন না। এরপর তিনি ভালো করে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন,ওই ১৩ জনের কাছ থেকে সর্বমোট প্রায় দেড় কোটি টাকা গোপনে নিয়ে,সাবেক সভাপতি বাবু সামন্ত কুমার সরকার এর জালি স্বাক্ষর করে ঔই সময়ে নিয়োগ দেখিয়ে  সকল কার্যক্রম জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পর্ন করেছে অধ্যক্ষ দেওয়ান রুহুল আমিন।

এ সকল বিষয়ে জানার পর বাবু সামন্ত কুমার সরকার, সরকারি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

যার প্রেক্ষিতে গত (০৩এপ্রিল ২০২৩ ইং) সোমবার নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার মো.লুৎফর রহমান সরেজমিনে তদন্ত করতে “মান্দা মহানগর কলেজে যান। সেখানে সকল শিক্ষক কর্মচারী ও অভিযোগকারীসহ স্থানীয় লোকজন এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রথমেই ধরা পড়ে মো. আকতার হোসেন খন্দকার নামের একজনকে ইন্টারমিডিয়েটের নিয়োগের জায়গায় অধ্যক্ষ রুহুল আমিন জালিয়াতি বা সাবেক সভাপতি জালি স্বাক্ষর করে তাকে ডিগ্রিতে নিয়োগ দেখিয়েছে। যাহা কেহই জানেন না এমন কি নিয়োগকৃত শিক্ষকও জানতেন না।

এরপর ধরা পড়ে অধ্যক্ষের নিজের বোন জান্নাতুন ফেরদৌস এর অফিস সহকারী পদে দুই সময়ে নিয়োগ দেখিয়েছে। সাবেক সভাপতির সময়েও জাল স্বাক্ষরে নিয়োগ দেখানো হয়েছে একবার, আবার চলতি বর্তমান সভাপতির সময়েও নিয়োগ দেখানো হয়েছে। এক ব্যাক্তির দুই বার, দুই সময়ে নিয়োগের বিষয় জানতে চাইলে অধ্যক্ষ রুহুল আমিন কোন উত্তর দিতে পারে না। উক্ত কলেজের একাধিক শিক্ষক কর্মচারী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, কলেজ ও কলেজের বাহিরেও এমন কোন জালিয়াতি ও জাল বিষয় নেই যে, এই অধ্যক্ষ রুহুল আমিন করে না। তাহার মুখ থেকে বের হওয়া ৯৫% কথাও সে মিথ্যা বলে থাকে এ জন্য বড়ই যন্ত্রণায় আছেন বলে তারা জানায়। স্থানীয়রা দাবী করে জানান,যদি সঠিক তদন্ত করা হয় তাহলে অধ্যক্ষ রুহুল আমিন তার নিজের নিয়োগের বিষয়েও কোথাও না, কোথাও ঘাবলা আছে বা করেই নিয়োগ নিয়েছে বলে জানান।

অভিযোগকারী কলেজের সাবেক সভাপতি বাবু সামন্ত কুমার সরকার জানান, তাহার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে,ভুয়া নিয়োগ সংক্রান্ত ভুয়া রেজুলেশন তৈরী করে, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও তাহার দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে ভুয়া বোর্ড গঠন দেখিয়ে ১৩জনের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ রুহুল আমিন ও তার স্ত্রী খুব সকালে সাবেক সভাপতির বাড়ীতে গিয়ে অনেক হাত,পা ধরে কান্নাকাটি করেছে এবং এবারের মত ক্ষমা করার জন্য হাতে পায়ে ধরছে। কিন্তু সাবেক সভাপতি বলেন, এর আগেও অনেক ভুল করেছে সেগুলো ভুল ক্ষমার যোগ্য ছিলো তাই ক্ষমা করেছেন তিনি কিন্ত এটা ক্ষমার অযোগ্য, ভুল নয় অপরাধ করেছে সে, তাই সে ক্ষমা নয়,শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। এর শেষ দেখবেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার মো.লুৎফর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তদন্ত শুরু  হয়েছে, শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখন কিছু বলা যাবে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি। যোগাযোগ: হটলাইন: +8801602122404 ,  +8801746765793 (Whatsapp), ই-মেইল: [email protected]